অতৃপ্ত কবি (by অনিরুদ্ধ দে পিয়াস)

তোমার সাথেই বেঁধেছি আমার সুর

বেধেছি পথের দিশা,

তবু তো আমার হয়নি শ্রান্ত

অফুরান অন্বেষা।

বিস্তারিত পড়ুন

Advertisements

কোন সফটওয়্যার ছাড়াই ইউটিউব এর ভিডিও হরেক ফরমেট এ ডাউনলোড করুন!!(ইউটিউব প্রেমিদের অবশ্যপাঠ্য)

বর্তমানে ভিডিও দেখা বা ডাউনলোড করার কথা আসলে আমরা প্রথমেই যে ওয়েবসাইট টির শরনাপন্ন হই সেটা হল ইউটিউব। ইউটিউব এর নাম জানে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুস্কিল। আজ আমরা দেখব ইউটিউব থেকে কিভাবে কোন সফটওয়্যার ছাড়াই আপনার পছন্দের ভিডিও টি কাঙ্খিত ফরমেটে ডাউনলোড করতে পারবেন। তাহলে কাজের কথা শুরু করা যাক। বিস্তারিত পড়ুন

একটি অন্যরকম ভালবাসার গল্প (BY Abir Abid)

(গল্পের সব চরিত্র, স্থান, কাল এমনকি পুরো গল্পটিই কাল্পনিক। কোন ব্যক্তির সাথে এর কোন মিল থাকলে লেখক দায়ী নয়।)

গতকাল আমাদের নতুন বাসার কাজ শেষ হল। বাসায় মাল-পত্র ওঠানো হচ্ছে। আগে থাকতাম টিনশেডের ১তলা বাসায়। সেটি ভেঙ্গে ২তলা দালান করা হয়েছে। উপর তলায় আমরা থাকব আর নিচ তলা ভাড়া দেওয়া হবে।

১ সপ্তাহ পর…………….

স্কুল থেকে বাসায় যাওয়ার সময় দেখি বাসার সামনে রাস্তায় ১টি অচেনা মেয়ে দাড়িয়ে আছে। এই মেয়েকে আগে এই মহল্লায় দেখি নাই। হইতবা নতুন এসেছে। দেখতে মোটামুটি সুন্দর। আমি ছোটকাল থেকেই বেপরোয়া টাইপের ছেলে। অত্যন্ত জেদি। কোনদিনও কোন মেয়ের দিকে সেরকম ভাবে তাকায় নি। আসলে আমি মেয়েদের দেখে কোনদিনও কোন প্রকার আকর্ষণ অনুভব করি নি। বাসায় যতক্ষণ থাকি কম্পিঊটার আর টিভি। বাইরে গেলে বন্ধুদের সাথে আড্ডা। এই মেয়েকে দেখেও সেরকম কোন অনুভুতি পেলাম না। শুধু ১টু কৌতূহল জাগল। এই এলাকার সব মেয়েকে চিনি, কিন্তু এ কে। অবশ্য পরদিন সব ই জেনে গেলাম। ঐদিন বাসায় গিয়ে দেখি নিচ তলায় মালামাল উঠানো হচ্ছে। বুঝে গেলাম বাসা ভাড়া হয়ে গেছে। তারপরও উপরে গিয়ে আম্মাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘আম্মা, বাসা ভাড়া হইয়া গেছে’। ‘হ, অই তুই ইকটু নিচে জাইয়া দেইখা আসতি সব ঠিকঠাক উঠাইতেসে কিনা’। ‘নাহ, এখন জামু না। পরে জামু নে’। ‘হ, জাইয়া দেইখা আসিস’। কিন্তু যাওয়া আর হলনা। স্কুল থেকে আসি বিকাল সাড়ে পাঁচটাই। শরীর খুব দুর্বল হয়ে যায়। তাই আর বাইরে যেতে ইচ্ছা করে না। স্কুল শুরু হয় ১২.৩০ এ। নবম শ্রেণীতে উঠেছি এইবার। বিস্তারিত পড়ুন

ফেলে দেয়া জিনিস দিয়ে নিজের হাতে তৈরি করুন মুভি প্রজেক্টর(BY ANIRUDDHO DEY PIAS)

ধরুন, আপনার খুব শখ ঘরে বসে বড় পর্দায় সিনেমা দেখবেন। শখটা পূরণ করতে হলে আপনাকে অন্ততঃপক্ষে ২৪,০০০ টাকা খোয়াতে হবে। কেন? একটা ভাল Projector কিনতে হবে যে। কি, খুব হতাশ হলেন? ভাবছেন, শখটা বুঝি মাটি হল। চিন্তা নেই। আজ আমি দেখিয়ে দিচ্ছি অল্প খরচে কিভাবে ঐ বস্তুটা তৈরি করতে হবে।

Projector তৈরির জন্য আমাদের প্রয়োজন হবে শক্ত, যতদূর সম্ভব আলোক নিরোধী একটা বাক্স (কার্টন বাক্স হলে ভাল হয়), Racket-এর ফেদারের একটা শক্ত খোল, এবং ৩-৬ ইঞ্চি (এর মধ্যে যেকোন) ফোকাস দূরত্ব বিশিষ্ট একটি উত্তল লেন্স। এছাড়াও কাচি, স্কচটেপ, স্কেল, পেনসিল ইত্যাদি লাগবে। আর বানানো শেষে ভিডিওর জন্য দরকার পড়বে যেকোন ভিজু্য়াল ডিভাইসের (মোবাইল ফোন, MP4, MP5 ইত্যাদি) । তাহলে আসুন, কাজ শুরু করা যাক।

প্রথমে বাক্সটার দৈর্ঘ্য বরাবর দুটো বৃত্তাকার গর্ত করতে হবে, যাদের ব্যাস হবে Racket-এর ফেদারের খোলের ব্যাসের সমান। বাক্সটা পুরোপুরি কালো রঙের হলে ভালো হয়। অন্য রঙের বাক্স হলে কাগজ পেঁচিয়ে কিংবা রঙ করে কালো করে নিতে হবে।

                   

                                    কালো বাক্স(ছবিতে সাদা দেখানো হয়েছে)

 

এবার, Racket-এর ফেদারের খোলের দুটো ঢাকনার মধ্যে যে ঢাকনাটা সমতল, সেটার মধ্যে একটা বৃত্তাকার গর্ত করে উত্তল লেন্সটাকে বসাতে হবে।

                                                              

                    এখন Racket-এর ফেদারের খোলটার মধ্যে একটু কারসাজি করতে হবে। নিচের চিত্রের মত করে খোলটাকে কাটতে হবে।

 

                                                                   

                                                  ছাই রঙের অংশটুকু কেটে ফেলতে হবে। অংশটার প্রস্থ হবে যে ডিভাইসটি ব্যবহার করা হবে(মোবাইল ফোন, MP4, MP5 ইত্যাদি), তার প্রস্থের সমান। খোলটির অবস্থা দাঁড়াবে এরকম-

                                                                           

                                                                          

            এবার আপনার কাজ সোজা। কাটা Racket-এর ফেদারের খোলটাকে কালো বাক্সটার মধ্যে ঢুকিয়ে দিন। কাজটা নিচের চিত্রের মত করে করতে হবে।  

 

                                                                      

                                                           (ছবিটা বাক্সের উপরের দিক থেকে দেখানো হয়েছে)

এখন, বাক্সের সামনের দিকে(A প্রান্তে) খোলের মাথায় লেন্স লাগানো প্লাস্টিকের ক্যাপটা লাগিয়ে দিন। অন্য ক্যাপটা দিয়ে খোলের পিছনের মাথাটাও বন্ধ করে রাখবেন। সামগ্রিকভাবে, খোলের ভেতরটা যতদুর সম্ভব আলোক নিরুদ্ধ হওয়া চাই। খোলটাকে খুব শক্ত করে বাক্সের সঙ্গে আটকাতে হবে। একাজে স্কচটেপ ও আইকা আঠা ব্যবহার করা যেতে পারে।

এই কাজগুলো শেষ হয়ে গেলেই আপনার Projector তৈরি। পুরো জিনিসটা দাঁড়াবে এরকম-

                                                       

ভিজুয়াল ডিভাইসটির স্ক্রীনটাকে লেন্সের দিকে মুখ করিয়ে ডিভাইসটিকে খোলের মধ্যে বসিয়ে দিতে হবে। এবার Projector-টিকে দেয়ালের (দেয়ালটাকে অবশ্যই সাদা হতে হবে) দিকে মুখ করিয়ে স্থিরভাবে কোন জায়গায় বসিয়ে দিলেই দেয়ালে স্ক্রীনের ছবি বড় করে দেখা যাবে।

মনে রাখতে হবেঃ
I. ঘর অবশ্যই অন্ধকার রাখতে হবে।
II. ছবি অস্পষ্ট দেখা গেলে খোলের কাটা অংশের মধ্যে ডিভাইসটিকে সামনে-পিছনে করলেই যেকোন একটি অবস্থানে ছবি স্পষ্ট আসবে। দেয়াল থেকে যত দূরে যাওয়া হবে, ডিভাইসের অবস্থান লেন্সের তত কাছে হতে হবে।
III. এরপরও ছবি ভালো না আসলে খোলের কাটা অংশের দৈর্ঘ্য বাড়াতে হবে অথবা আরও বেশি ক্ষমতার লেন্স(অপেক্ষাকৃত ছোট ফোকাস দূরত্বের লেন্স) ব্যবহার করতে হবে।
IV. ভালো লেন্স ব্যবহার করলে ছবিও ভালো আসবে।
V. লেন্স যত বেশি ক্ষমতার হবে, ছবি তত বড় আর সুন্দর আসবে। ছবির মান (রেজুলেশন) ডিভাইসের স্ক্রীনের সমান হবে।
VI. দেয়াল সাদা না হলে সাদা পর্দা বা কাগজ(যেমন ক্যালেন্ডারের পিছনের সাদা অংশ বা আর্ট পেপার) ব্যবহার করা যেতে পারে।
আপনাদের জন্য একটি উদাহরণ দিয়ে দিচ্ছি:
২ ফুট লম্বা খোল এবং ৫ ইঞ্চি ফোকাস দূরত্বের উত্তল লেন্স ব্যবহার করলে ভাল মানের ডিভাইসের (যেমন Nokia 6300 বা Nokia 5130 অর্থাৎ রেজুলেশন বেশি এমন ডিভাইস) সাহায্যে আপনারা ৪ ফুট বাই ৩ ফুট সাইজের ছবি দেখতে পারবেন পর্দায়, তাতে ছবি একদম স্পষ্ট পাবেন! (মনে রাখবেন, ছবি যত ছোট রাখবেন, তত স্পষ্ট আসবে) লেন্সের সাথে ডিভাইসের দূরত্ব কমিয়ে বাড়িয়ে আপনারা ছবি ছোট বড় করতে পারবেন।

মোবাইল ব্যবহার করলে মোবাইলের লাউডস্পীকারের শব্দটাই শোনা যাবে। কিন্তূ ভাল মানের শব্দ পেতে চাইলে আপনি বাক্সের নিচে একটা ফুটো করে মোবাইলের ইয়ারফোনের প্লাগ ঢুকিয়ে সাউন্ডবক্সের সাহায্যে ভাল শব্দ পেতে পারেন।

তো, আর দেরি কেন? বসে পড়ুন ঘরে বসে বড় পর্দায় সিনেমা দেখতে!!! ;)

এই প্রজেক্টর টা সম্পূর্ণভাবেই নিজে বানিয়েছি। আইডিয়াটাও পুরোপুরি নিজস্ব, ধার করা না (ভাববেন না যেন আমি জব্বার কাগুর মতো প্যাটেন্ট করিয়ে চিল্লাচিল্লি শুরু করবো……… ;) )। আপনারা কেউ এটা দ্বারা উপকৃত হলে আনন্দিত হবো।

বানাতে গিয়ে কোন সমস্যায় পড়লে জানাবেন। আমি সাধ্যমত সমাধান দেবার চেষ্টা করবো।

 

আপনার পিসির ভার্চুয়াল মেমোরি বাড়িয়ে নিন(BY ANIRUDDHO DEY PIAS)

উইন্ডোজ এক্সপি,ভিসতা এবং সেভেন আপনার হার্ডডিস্কে ডাটা সংরক্ষণের জন্য একটি বিশেষ পেজিং ফাইল ব্যবহার করে। যখন পসিতে অনেকগুলো এ্যপ্লিকেশন একত্রে রান করে এবং আপনার র‌্যামের পরিমাপ এতগুলো কাজ একসাথে করতে পর্যাপ্ত না হয় তখন র‌্যামের বদলে সাময়িকভাবে উইন্ডোজ ওই পেজিং ফাইলের স্পেস র‌্যাম হিসেবে ব্যবহার করে। কিন্তু হার্ডডিস্ক র‌্যামের চেয়ে অনেক মন্থর গতিতে কাজ করে। তাই ভালো পারফরম্যান্স পেতে আসুন দেখে নিই এই পেজিং ফাইলকে কিভাবে অপটিমাইজ করবেন।

>>মাই কম্পিউটারে রাইট ক্লিক করে প্রোপ্রার্টিজ-এ যান। বামপাশে Tasks মেনু থেকে Advanced System Settings-এ ক্লিক করুন। এক্সপিতে এটি Advanced ট্যাব আকারে পাবেন।

>>Performance মেনুর সেটিংস-এ ক্লিক করুন। আবারো Advanced ট্যাবে ক্লিক করুন। Virtual Memory মেনু থেকে Change বাটনে ক্লিক করুন।

 

 

>>উইন্ডোজ আপনার হার্ডড্রাইভের সব পার্টিশন ও প্রতি ড্রাইভের জন্য পেজিং ফাইল সেটিংস দেখাবে। ‘Automatically manage paging file size for all drivers’ বক্সের টিক চিহ্ন উঠিয়ে দিয়ে প্রতিটি ড্রাইভে পেজিং ফাইলের জন্য বরাদ্দকৃত সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মেমোরির পরিমাণ নিজের সুবিধামতো কাস্টোমাইজ করে নিতে পারবেন এখান থেকে।

>>র‌্যাম ও হার্ডডিস্কের ফ্রি স্পেসের দিকে খেয়াল রাখুন। যেমন এই মুহূর্তে আমার হার্ডডিস্কের ২.২ গিগাবাইট স্পেস ভার্চুয়াল মেমোরির জন্য বরাদ্দ যার ১.৭ গিগাবাইট ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মানে কি ? এই মেমোরিটি না থাকলে শুধুমাত্র র‌্যাম সব কাজ একা করতে পারতো না। ফলে আমার সিস্টেম স্লো হয়ে যেত ও হ্যাং হবার সংখ্যা বেড়ে যেত। আশাকরি পিসির পারফরমেন্স বাড়াতে ভার্চুয়াল মেমোরির প্রয়োজনীয়তা কিছুটা হলেও বুঝতে পারছেন!

প্রয়োজনে ; aniruddhodey@rocketmail.com

কিছুটা প্রেম বাকিটা ভালবাসা -১ম পর্ব(by ANIRUDDHO DEY PIAS)

মুখ ভার করে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো বৃষ্টি। আমাকে চমকে দিয়ে হঠাৎ আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেই ফেললো , ” আমি তোমাকেভালোবাসি”। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি ততক্ষনে বোকা বনে গেছি। চারিদিকে তাকিয়ে দেখলাম কেউ দেখছে নাকি। কোনভাবে বৃষ্টির বাহুবন্ধন ছারিয়ে দৌড়ে পাশের ঘরে আম্মুর কাছে গেলাম। সেখানে আম্মু আর বৃষ্টির মা গল্প করছিলেন। আমি আম্মুর কোলে যেয়ে কাঁদো কাদোঁ হয়ে বলে দিলাম, ” আম্মু বৃষ্টি বলে ও নাকি আমাকে ভালোবাসে। আমাকে ছারা নাকি বাঁচবে না। আমার এখন কি হবে আম্মু। ও কত পঁচা মেয়ে। ” আমি হাউ মাউ করে কেঁদেই ফেললাম। আমার কান্না না থামিয়ে দুই মহিয়সী নারী তখন আমার কথা শুনে অট্টহাসিতে ব্যাস্ত।
আমার বয়স তখন সাত কি আট বছর আর বৃষ্টি পাঁচের আশেপাশে। সেই বয়সে আমি সুকুমার রায় কিংবা তিন গোয়েন্দা পড়ে বিশাল জ্ঞানী আর বৃষ্টি সারাদিন বাংলা আর হিন্দি সিনেমা দেখে ভীষন রোমান্টিক মেয়ে। আমাকে দেখলেই গান শুরু করতো, ” তুম পাসআয়ে, ইউ মুজকো রায়ে… ” বৃষ্টির আচার আচরন তেমন পছন্দ না করলেও বৃষ্টিকে ছারা আমার কোন উপায় ছিল না। চারদেয়ালের বন্দী জীবনে বৃষ্টিই ছিলআমার খেলার সাথী অথবা বলা যেতে পারে সবথেকে ভালো বন্ধু। আমি যখন ওকে হারকিউলিসের অভিযানের গল্প শোনাতে চাইতাম ও উল্টা আমাকে হিন্দী মুভির রিভিউ শুনিয়ে দিতো। খুব ভালো নাচতে পারতো, হাত পা কোমড় দুলিয়ে নেচেও দেখাতো। মাঝে মাঝে গলার ওড়না ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কি একরকমের নাচ দিত যা সেই বয়সে আমার জ্ঞানের বাইরে ছিল।দু একবার সর্প নাগিনের নাচ দেখার সৌভাগ্যও আমার হয়েছিল।
আমার সুহৃদয় সম্পন্না আম্মাজান বৃষ্টিকে অতিশয় পছন্দ করতেন। বৃষ্টিকে ঘরে তোলার বেশ ইচ্ছেও তার মাঝে দেখা যেতো। হয়ত নিজের মেয়ে ছিলনা বিধায় এই দুষ্ট মেয়েটিকে অনেক বেশি আদর করতেন। ছোট বেলা থেকে দেখেছি বৃষ্টি ওদের বাসায় না থেকে আমাদের বাসাতেই থাকতো বেশি। বৃষ্টির বাবা মাঝে মাঝে রসিকতা করে বলতেন,”এখন থেকেই এই বাড়িতে ঘর সংসার বেঁধেফেলেছো, যখন একেবারে তোমাকে এই বাড়িতে পাঠিয়ে দেব তখনতো বাবা মা কেচিনবে না।” এই কথায় বৃষ্টি লজ্জিত হওয়ার পরিবর্তে আমার দিকে তাকিয়ে হাফ ইঞ্চির ঠোট দুই ইঞ্চি করে একটা হাসি দিতো। ওর সেই হাসির রহস্য উদঘাটনের কোন আভাস আমি তখনো টিনটিন সিরিজে পাইনি।
এভাবেই দেখতে দেখতে বেশ কিছু বছর কেটেযায়। আমি তখন দশম শ্রেনীতে পড়ি আর ওক্লাস সেভেনে। তখনো আমাকে জ্বালাতন করা থামেনি। ও যখন আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতো, ওকে দেখতে আমার কেমন যেন কার্টুন কার্টুন মনে হতো। হাতে পায়ে লম্বা হলেও দুষ্টামি কমেনি ওর। একদিন পরীক্ষার আগে আমি কোচিং এ। ও কখন যে একটা লাভলেটার লিখেআমার টেবিলে রেখে গেছে আমি জানতামই না। আমার বাবা কখনো আমার খোঁজ খবর না নিলেও সেদিন কি মনে করে আমার ঘরে যেয়ে এই ভয়ংকর মেয়ের লাভলেটার উদ্ধার করে। আমি যখন বাসায় ফিরলাম দেখি যে দুই ফ্যামিলি একত্র হয়ে বসে আছে। আম্মু আমার দিকে লাভলেটারটা বাড়িয়ে দিলেন। চিঠির শেষে ছোট্ট করে প্যাচের হাতে লেখা, ” ইতি , তোমার ভালোবাসার বৃষ্টি। ” আমি এবারও ঘটনার কিছু বুঝতে না পেরে কেঁদেই ফেললাম, একটু পরে দেখি বৃষ্টিও আমার সাথে কান্নাকাটি জুরে দিয়েছে। দুজনকে কান্না করতে দেখে দুজন বাবা আর দুজন মা কিভাবে এত হাসতে পারে সেটাও আমি এখনো বুঝতে পারি না।
এরই মাঝে বছর দুয়েক পেরিয়ে যায়। আমি কলেজে তখন ভবিষ্যত গড়ায় ব্যাস্ত। নিক্তি আর ক্যালভিন স্কেলেরসুক্ষ রিড খাতায় টুকে স্যারকে দেখিয়ে মার্ক বাড়ানো ছারা তখন আর কোন লক্ষ্য স্থির করতে পারছিলাম না। হঠাৎ করেই একদিন আমার জন্মদিনে বৃষ্টির দেয়া গিফট দেখে ওর কথা মনে পরে গেলো। কিছুদিন থেকে যে ও আমাকে জ্বালাতন করছে না সেটা আমি বুঝতেই পারিনি। কেন যেন ওকে দেখতে খুব ইচ্ছে হলো সেদিন। আর সেদিন বিকেলেই আমার জীবনের সব থেকে বড় হৃদকম্প হয়েছিল, রিকটার স্কেলে পরিমাপ করলে যার মাত্রা নয় ছারিয়ে যাবে।
সেদিন বিকেলে ছাদে বসে আমি ভাবছিলাম বৃষ্টির আবার অসুখ করলো নাকি। নইলে যেমেয়ে সারাদিন আমার পাশে ঘুর ঘুর করে সে হঠাৎ করে কোথায় চলে যাবে? হঠাৎ করেই দেখি কোন একটা মেয়ে একটু দূরে দাঁড়িয়ে আমি যেদিকটায় তাকিয়ে ছিলাম সেদিকে তাকিয়ে আছে। পড়নে লাল পারের শাড়ি, ঠোঁটে হালকা লাল লিপস্টিক, চোখে বেশ করে কাজল দেয়া, চুল ছেরে দেয়াতে মেয়েটাকে অন্যরকম সুন্দর লাগছিলো। ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলাম এইটা বৃষ্টি। আমি পুরাই আহাম্মক হয়ে গেলাম। এই কয়দিনে বৃষ্টি কত বড় হয়ে গেছে,আবার তার উপরে পুরাই অপ্সরী ছারিয়ে গেছে! আমি কাছে যেয়ে আস্তে করে বললাম,” বৃষ্টি, তোকে আজ দেখতে খুব সুন্দর লাগছেরে, মনে হচ্ছে আধোনীল আর আধো গোধূলীর আকাশথেকে কোন রাজকন্যা নেমে এসেছে ” ; লজ্জায় টমেটোর মত মুখ করে দৌড়ে পালিয়ে যায় বৃষ্টি।
এরপর আমার ধারে কাছেও ভিরতো না বৃষ্টি। কোন কারনে ভুল করে যদি আমি ওরসামনে পরে যেতাম লজ্জায় মাথা নীচু করে রাখতো। আমি এক সময় অনুভব করলাম এই মেয়েটার সাথে আমার হৃদয়ের কোন সম্পর্ক আছে। আমি ঘুমাতে গেলে ঘুমাতে পারি না, রাস্তায় হাটার সময় বিরবির করে কি যেন বলতে থাকি, বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বৃষ্টিদের বাসায় উঁকিঝুকি মারি ওকে একটু দেখার আশায়। বুঝলাম আমি শ্যাষ।
এরই মধ্যে আমি চুয়েটে চান্স পেয়ে যাই। ঢাকায় হয়নি বলে মনে তখন বিশাল ক্ষত। সবচেয়ে বেশি কস্ট হচ্ছিল বৃষ্টিকে দেখতে পারব না ভেবে। ইচ্ছে ছিলো যাওয়ার আগে বৃষ্টিকে ভালোবাসারকথা বলবো, কিন্তু আমার হৃদয়ের অপারেটিং সিস্টেম থেকে বলতে লাগলো, ” আপনার বুকে যথেষ্ঠ পরিমান সাহস জমা নেই, অনুগ্রহ পূর্বক রিচার্জ করে আবারআসুন, ধন্যবাদ। ”
প্রতি সেমিস্টার শেষ করে সোজা ঢাকায় চলে যেতাম, কিন্তু তখনো আমি সাহসের ফার্স্ট লেভেল পার করতে পারিনি। টুকটাক কথা চলতো আমাদের, কিন্তু সাহস করে ভালোবাসি শব্দটা বলতে পারতাম না। আমি তখন বুঝতে পারি যারা সত্যিকারের ভালোবাসে , ভালোবাসার মানুষের কাছে প্রথমবার এই শব্দটি বলা কতবড় দুষ্কর কাজ। কনকনে শীতের মাঝেও ওকে দেখলে আমি ঘুমিয়ে যেতাম। (চলবে)

Posted in সাহিত্য | কিছুটা প্রেম বাকিটা ভালবাসা -১ম পর্ব(by ANIRUDDHO DEY PIAS) তে মন্তব্য বন্ধ

কিছুটা প্রেম বাকিটা বাকিটা ভালবাসা-২য় অংশ(by ANIRUDDHO DEY PIAS)

এভাবেই লুকোচুরিতে চলতে থাকে দুটি মনের নিরন্তর ভালো লাগার খেলা। কিন্তু হঠাৎ করেই সব কিছুকেমন যেন এলোমেলো হয়ে গেলো।
আমি তখন ফাইনাল দিয়েছি। দুইদিন পরে রেজাল্ট আসবে। আর মাত্র দুইদিন পরে আমি গ্রাজুয়েট হতে যাচ্ছি ভাবতেই কেমন যেন শিহরন জাগে গায়ে। এরই মধ্যেআমার মোবাইলে একটা মেসেজ আসে। মেসেজে লিখা ছিলো, “কাল আমার বিয়ের কথাবার্তা পাকা করবে। যদি ভালোবাসো ফিরে এসো; বৃষ্টি।” আমি স্তদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। পাশে থেকে বন্ধু ইমন ঝুকে পরে দিয়ে জিজ্ঞাসা করলো,” কিরে খিজ খাইলি কেন? কি হইছে? ” আমি অস্ফুস্ট স্বরে শুধু বললাম ,” বৃষ্টির বিয়ে ।”
বন্ধু যে কত মহান হতে পারে আমি সেদিন হারেহারে বুঝতে পেরেছিলাম। রাত সাড়েচারটায় ইমন আমাকে নিয়ে মোটরসাইকেল হাকিয়ে রওনা দিলো বাস কাউন্টারে। যেয়ে দেখি লাস্ট বাস ছেরে গেছে। সকালছারা উপায় নাই। কি আর করা, দুই বন্ধু মোটর সাইকেল নিয়েই রওনা দিলাম ঢাকায়। আমি কিছুতেই বৃষ্টিকে হারাতেচাই না। ছোট বেলার ছোট ছোট সব স্মৃতি মনে পরে যাচ্ছিল। কেউ যদি আমাকে রচনা লিখতে বলে চাইল্ডহুড মেমরী নিয়ে তাহলে সাত পৃষ্টা জুড়েই থাকবে বৃষ্টির কথা। সেই বৃষ্টিকে আমি হারাতে বসেছি !
সন্ধ্যায় ঠিক আগে আগে আমার বাসার কাছেই পৌছলাম। দৌড়ে আমাদের বাসায় না যেয়ে সোজা বৃষ্টিদের বাসায় ঢুকলাম। বাসা ভর্তি মেহমান। কিছু অচেনা লোক। আমি তখন হিতাহিত জ্ঞানশূন্য। হাপাতে হাপাতে মুরব্বিদের সামনে যেয়ে পাগলপ্রায় হয়ে সিনেমার স্টাইলে বলে ফেললাম,” এই বিয়ে হতে পারে না। I Love Her From Childhood ! ”
পাশে তাকিয়ে দেখি আমার বাবাও বসে আছে। মুরুব্বিরা সব একে অপরের দিকে তাকাতে শুরু করেছে। আমি পাগলের মত কিসব বলে ফেলেছি। আজ এখানে নির্ঘাত কোন লঙ্কাকান্ড না হয়ে যায় না। কিন্তু হঠাৎ করেই ঘরে হাসির রোল পরে গেলো। কেউ হাসি থামাতে পারছে না। আমি ভাবলাম লং জার্নিতে গায়ে মুখে কালি লেগেছে তাই হয়ত হাসছে, হাত দিয়ে গাল ঘষতে লাগলাম। পরে যেয়ে জানতে পারলাম সেদিন বৃষ্টির সাথে আমারই বিয়ের কথা হচ্ছিল।
পাশের ঘরের জানালায় বৃষ্টি তাকিয়ে ছিল। পা টিপে পেছন থেকে যেয়ে ওর ঘাড়ে হাত রাখলাম। বৃষ্টি মৃদু কেঁপে উঠলো। আজ ওকে অপ্সরীর মত দেখাচ্ছে। ওরগাল টিপে দিয়ে বললাম,” এখনো দুষ্টুমীকমেনি তোমার? ” লজ্জা রাঙা মুখ ঢাকতে আমার বাহুডোরে এসে ধরা দিলো আমার স্বপ্নের অপ্সরী। দুহাতে জরিয়ে নিলাম সারা জীবনের জন্য। আজও দুষ্টুমী কমেনি ওর বরং ভালোবাসা বেড়েছে।।

Posted in সাহিত্য | কিছুটা প্রেম বাকিটা বাকিটা ভালবাসা-২য় অংশ(by ANIRUDDHO DEY PIAS) তে মন্তব্য বন্ধ